সনাতন ধর্ম ও গীতা নিয়ে কিছু বিখ্যাত লোকের উক্তি
“ভগবদ্গীতা হলো পৃথিবীর যেকোনো পরিচিত ভাষায় রচিত সর্বাপেক্ষা সুন্দর দার্শনিক কাব্য।”
জে রবার্ট ওপেনহাইমার ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিনিটি (Trinity) পরীক্ষা-র সময়, যেখানে প্রথম পারমাণবিক বোমা (atomic bomb) সফলভাবে বিস্ফোরিত হয়েছিল, সেই দৃশ্য দেখে তিনি গীতা থেকে এই বিখ্যাত উক্তিটি মনে করেছিলেন:
“Now I am become Death, the destroyer of worlds.”
[source: Kai Bird and Martin J. Sherwin, American Prometheus: The Triumph and Tragedy of J. Robert Oppenheimer, 2005, p. 312]
[source: Bhagavad Gita 11.32, Sanskrit verse: “कालोऽस्मि लोकक्षयकृत् प्रवृद्धो”]
এরভিন শ্রডিঙ্গার (Erwin Schrödinger, অস্ট্রিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী):
“উপনিষদ বা বেদান্ত দর্শনের একতা ও ধারাবাহিকতা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে প্রতিফলিত হয়েছে।”
শ্রোডিঙ্গার স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছিলেন যে হিন্দু ধর্মতত্ত্ব মেটাফিজিক্সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
[source: Walter J. Moore, Schrödinger: Life and Thought — this biography discusses Schrödinger’s interest in Vedanta and quotes a paraphrase about the unity of Vedanta and wave mechanics.]
ভের্নার হাইজেনবার্গ (Werner Heisenberg, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী):
“কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কিছু ধারণা যা আগে অত্যন্ত অদ্ভুত মনে হতো, তা হঠাৎ অনেক বেশি অর্থপূর্ণ হয়ে উঠলো ভারতীয় দার্শনিক চিন্তা অধ্যয়ন করার পর।”
যদিও এটি শুধুমাত্র গীতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, হিন্দু দর্শন তার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছিল।
[source: Fritjof Capra, The Tao of Physics, 1975, pp. 44–45]
[source (contextual): Capra’s interviews with Heisenberg, as cited in the book]
রালফ ওয়াল্ডো এমার্সন (Ralph Waldo Emerson, আমেরিকান দার্শনিক):
“একটি চমৎকার দিনের জন্য ভগবদ্গীতার কাছে আমি ঋণী।”
অতিন্দ্রিয়বাদ দর্শন গঠনের ক্ষেত্রে এমারসন প্রায়ই হিন্দু দর্শন থেকে—বিশেষ করে গীতা ও উপনিষদ থেকে—অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেছিলেন।
[Soure: Journals of Ralph Waldo Emerson, Vol. VII, p. 511]
হেনরি ডেভিড থোরো (Henry David Thoreau, আমেরিকান সাহিত্যিক):
“প্রতিটি সকালে আমি আমার বুদ্ধিকে ভগবদ্গীতার সেই বিস্ময়কর ও সৃষ্টিতত্ত্বমূলক দর্শনে স্নান করাই।”
ওয়ালডেন পন্ডে বসবাসকালে থোরো প্রতিদিনই ভগবদ্গীতা পাঠ করতেন।
[source: The Journals of Henry David Thoreau, edited by Bradford Torrey and Francis H. Allen, 1906; also cited in various Thoreau compilations]
আর্থার শোপেনহাওয়ার (Arthur Schopenhauer, জার্মান দার্শনিক):
“ভগবদ্গীতা পৃথিবীর অন্যতম সর্বাধিক পজ্ঞাবর্ধক ও আত্মোন্নতিমূলক গ্রন্থ।”
শোপেনহাওয়ার ভারতীয় দর্শনের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন—বিশেষত বেদান্ত দর্শনের দ্বারা।
[source: Arthur Schopenhauer, The World as Will and Representation, Preface to 1st edition (1818)]
অ্যাল্ডাস হাক্সলি (Aldous Huxley, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক):
“ভগবদ্গীতা সম্ভবত চিরন্তন দর্শনের সর্বাধিক সুসংবদ্ধ আধ্যাত্মিক প্রকাশ।”
হাক্সলি হিন্দু দর্শনকে একটি সর্বজনীন আধ্যাত্মিক কাঠামো হিসেবে দেখেছিলেন।
[source: Aldous Huxley, Introduction to The Bhagavad‑Gita: The Song of God, translated by Swami Prabhavananda and Christopher Isherwood, 1944]
মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi, ভারতীয় জাতীয় নেতা ও চিন্তাবিদ):
"যখন সন্দেহ আমাকে ঘিরে ধরে, যখন হতাশা চোখের সামনে এসে দাঁড়ায়, আর দিগন্তে আশার কোনো আলো দেখতে পাই না, তখন আমি ভগবদ্গীতার শরণ নিই এবং সেখান থেকে একটি শ্লোক খুঁজে বের করি যা আমাকে সান্ত্বনা দেয়; আর তৎক্ষনাৎ গভীর দুঃখের মাঝেও আমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।"
[source: Mahatma Gandhi, The Story of My Experiments with Truth, 1927]
স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda, ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মগুরু):
“ভগবদ্গীতা আধ্যাত্মিক সত্যের অপূর্ব ফুলের একটি সুন্দর তোড়া।”
তিনি হিন্দু দর্শনকে পশ্চিমে উপস্থাপন করেছিলেন, যুক্তিসঙ্গত ও সর্বজনীন হিসেবে।
[source: Swami Vivekananda, Lectures from Colombo to Almora, 1897–1898]
সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ (Sarvepalli Radhakrishnan, ভারতীয় দার্শনিক ও রাষ্ট্রনেতা):
“ভগবদ্গীতা কোনো ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদের গ্রন্থ নয়; বরং এটি আধ্যাত্মিক শিক্ষার মৌলিক সারসংক্ষেপ।”
[source: S. Radhakrishnan, The Bhagavadgita, 1948]
উইল ডুরান্ট (Will Durant, আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক):
“ভারত ছিল আমাদের জাতির মাতৃভূমি, আর সংস্কৃত ছিল ইউরোপের ভাষাসমূহের জননী… হিন্দুধর্ম ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক সহনশীল ধর্ম।”
[source: Will Durant, The Case for India, 1930]

Join the conversation