উচ্চারণ ও অর্থ সহ মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র (সংস্কৃত):
"ॐ त्र्यम्बकं यजामहेसुगन्धिं पुष्टिवर्धनम्
उर्वारुकमिव बन्धनान्मृत्योर्मुक्षीय मामृतात् ॥ "
উৎস: ঋগ্বেদ ৭.৫৯.১২
Om Tryambakam Yajamahe Sugandhim Pushtivardhanam
Urvarukamiva Bandhanan Mrityor Mukshiya Maamritat
শুদ্ধ উচ্চারণঃ
Om tryambakaṁ yajāmahe sugandhiṁ puṣṭi-vardhanam | urvārukam iva bandhanān mṛtyor mukṣīya mā’mṛtāt ||
উচ্চারণ টিপস (খুব গুরুত্বপূর্ণ)
ত্র্যম্বকম্ → tryam-ba-kaṁ (ত্রি নয়, ত্র্যম্)
যজামহে → ya-jā-ma-he (জা দীর্ঘ)
মৃত্যোর্ → mṛ-tyor (ঋ ধ্বনি, রি নয়)
মা’মৃতাত্ → mā amṛtāt (এখানে মা = আমাকে)
বাংলায়ঃ
"ॐ ত্রৈয়ম্বকম্ য়জামহে সূগন্ধিম্ পূষ্টিবর্ধনম্ ।
উর্বারূকমিব বন্ধনাম্ মৃত্যুরমোক্ষিয় মামৃতাত ॥ "
বাংলা অর্থ (শাস্ত্রসম্মত ভাবানুবাদ):
আমরা ত্রিনয়ন শিবকে পূজা করি, যিনি সুগন্ধময় ও সকল পুষ্টির বর্ধনকারী। যেমন পাকা শসা লতা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্ত হয়, তেমনই যেন তিনি আমাদের মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করেন। (মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে মোক্ষ দান করেন।)
বৈদিক উৎস ও ঋষি:
উৎস: ঋগ্বেদ ৭.৫৯.১২
দ্রষ্টা ঋষি: বশিষ্ঠ
দেবতা: রুদ্র (শিবের বৈদিক রূপ)
ছন্দ: অনুষ্টুপ
“অমৃতাত্” শব্দের গূঢ় অর্থ
অনেকে ভুলভাবে ভাবেন—অমরত্ব চাওয়া হচ্ছে। আসলে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা:
মৃত্যোর্মুক্ষীয় মা + অমৃতাত্ = মৃত্যু থেকে মুক্তি দাও, কিন্তু অমৃত (ব্রহ্মজ্ঞান/মোক্ষ) থেকে বিচ্ছিন্ন কোরো না।
জপ করার নিয়ম (সংক্ষিপ্ত):
সময়: ভোর বা সন্ধ্যা
আসন: পূর্ব বা উত্তরমুখী
সংখ্যা: ১১ / ২১ / ১০৮ বার
শ্বাস: স্বাভাবিক, ধীরে
পূর্বকথনঃ
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র একটি সর্বরোগ হরণকারী মন্ত্র। এই মন্ত্রটি ভগবান মহাদেবকে স্মরণ করে রচিত। এই মন্ত্রটি ঋগ্বেদেও দৃষ্ট হয় আবার এই মন্ত্রটি মার্কণ্ডেয় পুরাণেও দৃষ্ট হয়। এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষ সব অশান্তি, রোগপীড়া ও ব্যাধি থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত হয়। নিরাকার মহাদেবই মৃত্যুমুখী প্রাণকে বলপূর্বক জীবদেহে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং অপার শান্তিদান করেন। এই মন্ত্রটির সাথে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। একসময় মহর্ষি মৃকন্ডু এবং তাঁর পত্নী মরুদবতী পুত্রহীন ছিলেন। তাঁরা তপস্যা করে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করেন এবং এক পুত্র লাভ করেন যার নাম হলো মার্কণ্ডেয়। কিন্তু মার্কণ্ডেয়ের বাল্যকালেই মৃত্যুযোগ ছিল। অভিজ্ঞ ঋষিদের কথায় বালক মার্কণ্ডেয় শিবলিঙ্গের সামনে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে লাগলেন। যথা সময়ে যমরাজ এলেন। কিন্তু মহাদেবের শরণে আসা প্রাণকে কেই বা হরণ করতে পারে! যমরাজ পরাজিত হয়ে ফিরে গেলেন এবং মার্কণ্ডেয় মহাদেবের বরে দীর্ঘায়ু লাভ করলেন। পরে তিনি মার্কণ্ডেয় পুরাণ রচনা করলেন।

Join the conversation